Leave a comment

মুসলিম মনীষীদের নিকট ‘আহলে হাদীস’

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণীত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيْلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِيْنَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِيْ عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِيْ النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوْا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِيْ.
ওয়া ইন্না বানী ইস্‌রাঈলা তাফার্‌রাক্বাত্‌ সিন্‌তাইনি ওয়া সাব্‌য়ীনা মিল্লাতান্‌ ওয়া তাফ্‌তারিক্বু উম্মাতী ‘আলা- সালাসিন্‌ ওয়া সাব্‌য়ীনা মিল্লাতান্‌, কুল্লুহুম ফীন্নারি ইল্লা মিল্লাতান ওয়াহিদাতান, ক্বলুঃ মান হিয়া ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌ ? ক্বলা মা- আনা আলাইহি ওয়া আস্‌হাবী।-
“এবং বনু ইস্রাঈল ৭২ ফের্কায় বিভক্ত হয়েছিল, আমার উম্মত ৭৩ ফের্কায় বিভক্ত হবে। সবাই জাহান্নামে যাবে, একটি দল ব্যতীত। তারা বললেন, সেটি কোন দল হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, যারা আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপরে আছি, তার উপরে টিকে থাকবে।”
(সহীহ তিরমিযী হা/২১২৯; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯২; সিলসিলাহ সহীহাহ হা/১৩৪৮; আলবানী, মিশকাত হা/১৭১)
আহমাদ ও আবুদাঊদ হযরত মু‘আবিয়া (রাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন যে,
ثِنْتَانِ وَسَبْعُوْنَ فِيْ النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِيْ الْجَنَّةِ وَهِيَ الْجَمَاعَةُ
সিন্‌তানি ওয়া সাব্‌ঊনা ফিন্নারি ওয়া ওয়াহিদাতান ফিল জান্নাতি ওয়াহিয়াল্‌ জামা’আহ্‌ ।-
“৭২ দল জাহান্নামী হবে ও একটি দল জান্নাতী হবে। আর তারা হ’ল- আল-জামা‘আত।”
(আবুদাঊদ হা/৪৫৯৬-৯৭; আহমাদ হা/১৬৯৭৯; মিশকাত হা/১৭২)
হাকেম বর্ণিত ‘হাসান’ সনদে এসেছে,
مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ وَأَصْحَابِي
মা- আনা ‘আলাইহিল্‌ ইয়াওমা ওয়া আস্‌হাবী।–
“আমি ও আমার সাহাবীগণ আজকের দিনে যার উপরে আছি।” (হাকেম হা/৪৪৪, ১/১২৯ পৃঃ)
খ্যাতনামা ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-এর কাছে রাসূল (ছাঃ) বর্ণিত ‘আল-জামা‘আত’ অর্থ কি- একথা জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন,
اَلْجَمَاعَةُ مَا وَافَقَ الْحَقَّ وَإِنْ كُنْتَ وَحْدَكَ
আল্‌-জামা’আতু মা- ওয়াফাক্বাল হাক্ব্‌ক্বা ওয়া ইন্‌ কুন্তা ওয়াহ্‌দাকা।–“হক-এর অনুগামী দলই জামা‘আত, যদিও তুমি একাকী হও।” (ইবনু ‘আসাকির, তারীখু দিমাশ্‌ক ১৩/৩২২ পৃষ্ঠা; আলবানী, মিশকাত ১/৬১ পৃষ্ঠা, হা/১৭৩-এর টীকা নং ৫)
সওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) উক্ত হকপন্থী দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন,
لاَ تَزَالُ طَائِـفَةٌ مِنْ أُمَّتِى ظَاهِرِيْنَ عَلَى الْحَقِّ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِىَ أَمْرُ اللهِ وَ هُمْ كَذَالِكَ-
লা- তাজালু ত্বায়িফাতুম মিন্‌ উম্মাতী জাহিরীনা ‘আলাল্‌ হাক্ব্‌ক্বি লা- ইয়াদ্বুর্‌রুহুম মান খাদ্বালাহুম হাত্তা ইয়াতী আমরুল্লাহি ওয়া হুম কাযালিক।–“চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবে থাকবে ।”
(সহীহ মুসলিম ‘ইমারত’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৩, হা/১৯২০; ফাৎহুল বারী হা/৭১ ‘ইল্‌ম’ অধ্যায় ও হা/৭৩১১-এর ভাষ্য ‘কিতাব ও সুন্নাহকে, ‘আঁকড়ে ধরা’ অধ্যায়; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০)
(১) পূর্বে উল্লিখিত হাদীস দু’টিতে বর্ণীত মুক্তিপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে ইমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ)-এর উস্তায আলী ইবনুল মাদীনী (১৬১-২৩৪ হিঃ) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন,
هُمْ أَهْلُ الْحَدِيْثِ …. وَ لَوْلاَ هُمْ لَمْ نَجِدْ عَنِ الْمُعْتَزِلَةُ وَالرَّفِضَةِ وَالْجَهْمِيِّةِ وَأَهْلِ الْإِرْجَاءِ وَالرَّأْىِ شَيْأَا مِّنَ السُّنَنِ
-“তারা হল ‘আহলুল হাদীস’ জামা’আত । … তারা ব্যতীত মু’তাযিলা, রাফেযী (শী’আ), জাহ্‌মিয়া, মুরজিয়া ও আহলুর রায়-দের নিকট থেকে সুন্নাতের কিছুই আশা করতে পারি না।” (আবুবকর আল-খ্বতীব বাগদাদী, শারফু আসহাবিল হাদীস, ৩০ পৃষ্ঠা; আল-কামেল ইব্‌নে আদী, ১/১৩১ পৃঃ; আবূ মুহাম্মাদ আলীমুদ্দীন, মতবাদ ও সমাধান, ১৫ পৃঃ)
(২) ইমাম আবুদাঊদ (২০২-২৭৫ হিঃ) বলেন,
لَوْلاَ هَذِهِ العِصَابَةُ لاَنْدَرَسَ الإِسْلاَمُ يَعْنِىْ أَصْحَابَ الْحَدِيْثِ
“আহলে হদীস’ জামা’আত যদি দুনিয়ায় না থাকত, তাহলে ইসলাম দুনিয়া থেকে মিটে যেত ।” (শারফু আসহাবিল হাদীস, ২৯ পৃষ্ঠা)
(৩) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন,
إِنْ لَّمْ يَكُوْنُوْا أَصْحَابَ الْحَدِيْثِ فَلاَ أَدْرِىْ مَنْ هُمْ؟
‘ইল্লাম্‌ ইয়াকূনূ আসহাবাল হাদীসি ফালা- আদ্‌রী মান্‌ হুম্‌ ?’
-“তারা যদি ‘আহলে হাদীস’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?”
(তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।)
(৪) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (মা’রিফাতু উলূমুল হাদিস, পৃঃ ২)
(৫)‘বড় পীর’ বলে খ্যাত শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী (৪৯১-৫৬১ হিঃ) বলেন,
وَأَمَّا الْفِرْقَةُ النَّاجِيَةُ فَهِيَ أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ قَالَ: وَأَهْلُ السُّنَّةِ لاَ إِسْمٌ لَهُمْ إِلاَّ إِسْمٌ وَّاحِدٌ وَّهُوَ أَصْحَابُ الْحَدِيْثِ–
‘অতঃপর ফির্কা নাজিয়া হ’ল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত। আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অন্য কোন নাম নেই একটি নাম ব্যতীত। সেটি হ’ল ‘আহলুল হাদীছ’।
(আব্দুল ক্বাদির জীলানী, কিতাবুল গুনিয়াহ ওরফে গুনিয়াতুত ত্বালেবীন (মিসর: ১৩৪৬ হিঃ) ১/৯০ পৃঃ)
তিনি আরও বলেন, বিদ’আতীদের লক্ষণ হল আহলে হাদীসদের গালি দেওয়া ও বিভিন্ন বাজে নামে তাদেরকে সম্বোধন করা । (ঐ)
(৬) ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হিঃ) বলেন,
أَهْلُ الْحَدِيْثِ فِىْ أَهْلِ الْإِسْلاَمِ كَأَهْلِ الْإِسْلاَمِ فِىْ أَهْلِ الْمِلَلِ
“মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ‘আহলে হাদীস’-এর মর্যাদা অনুরূপ, যেমন সকল জাতির মধ্যে মুসলমানদের মর্যাদা।” (মিনহাজুস সুন্নাহ (বৈরূতঃ দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, তাবি) ২/১৭৯ পৃঃ)
(৭) ইব্‌নে আব্‌দুল বার্‌ (৩৬৮-৪৬৩ হিঃ) ইমাম মালেকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আনেক সময় পরিচিত শাইখ আমাদের নিকট বসতেন এবং দিনের অধিক সময় কথাবার্তা বলতেন, কিন্তু আমরা তার কাছ থেকে একটি হাদীসও গ্রহণ করতাম না। ‘ওয়া লাকিন্নাহু লাইসা মিন আহলিল হাদীস’- এর মূলে একমাত্র কারণ ছিল যে, তিনি ‘আহলুল হাদীস’ ছিলেন না। (মুয়াত্তা মালেকের শারাহ ‘তামহীদ’ ৬৮ পৃঃ; আবূ মুহাম্মাদ আলীমুদ্দীন, মতবাদ ও সমাধান, পৃঃ ১৫ )
(৮) ইবনুল মুবারক (১১৮-১৮১ হিঃ) বলেন, هُمْ عِنْدِىْ أَصْحَابُ الْحَدِيِثِ “হুম ‘ইন্‌দী আসহাবুল হাদীস।”-নাজী দল হল ‘আহলে হাদীস’ জামা’আত । ( শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫)
(৯) আহমাদ ইবনু সিনান আল-ক্বাত্বান (মৃঃ ২৫৯ হিঃ) বলেন,
لَيْسَ فِى الدُّنْيَا مُبْتَدِعٌ إِلاَّ وَ هُوَ يُبْغِضُ اَهْلَ الْحَدِيْثِ
“লাইসা ফীদ্‌ দুন্‌য়া মুব্‌তাদিউন ইল্লা ওয়া হুয়া ইয়ুব্‌গিদ্বু আহলাল হাদীস।”- দুনিয়াতে এমন কোন বিদ’আতী নেই, যে ‘আহলে হাদীস’-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না। (ইমাম আব্দুর রাহ্‌মান সাবূনী, আক্বীদাতুস সালাফ ওয়া আসহাবিল হাদীস, পৃঃ ১০২ )
(১০) ইবনু কাসীর (৭০১-৭৭৪ হিঃ)
ইয়াওমা নাদ্‌ঊ কুল্লা উনাসিম বি ইমামিহিম- يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ
“যেদিন আমরা ডাকব প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের নেতাসহ ।” (ক্বুর’আন ১৭:৭১) আয়াতের ব্যাখ্যায় স্বীয় বিখ্যাত তাফসীরে বিগত কয়েকজন মনীষীর উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন,
هَذَا أَكْبَرُ شَرَفٍ لِأَصْحَابِ الْحَدِيْثِ لِأَنَّ إِمَامَهُمُ النَّبِىُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ
হাযা আক্‌বারু সারাফিন্‌ লি আসহাবিল হাদীসি লি আন্না ইমামাহুমুন্‌ নাবীয়ু (সাঃ)- “আহলে হাদীস’-এর জন্য এটাই সর্বোচ্চ মর্যাদা যে, তাদের একমাত্র ইমাম হলেন নবী (সাঃ)।” (তাফসীর ইবনু কাসীর, সূরা বণী ইসরাঈল ৭১ নং আয়াতের ব্যাখ্যা, ৩/৫৬ পৃঃ)
(১১)আবুবকর আল-খ্বতীব বাগদাদী (৩৯২-৪৬৩ হিঃ) বলেন, “আহলুল হাদীস-কে আল্লাহ শরীয়তের পিলার বানিয়েছেন এবং তাদের মাধ্যমে জঘন্য বিদ’আতকে ধংস করেছেন। (শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫)
(১২) শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হিঃ) বলেন, “সুতরাং এটা পরিস্কার যে, বিজয়ী দল হওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত হল ‘আহলুল হাদীস ওয়াস্‌ সুন্নাহ’ যাদের নবী (সাঃ) ছাড়া অন্ধঅনুসরণ করার মতো আর কোন নেতা নেই।” (মাজমু ফতুয়া, ৩/৩৪৭ পৃঃ)
(১৩) যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী মন্তব্য করেন,
فَلاَ عَجَبَ بَعْدَ هَذَا الْبَيَنِ اَنْ يَّكُوْنَ اَهْلُ الْحَدِيْثِ هُمُ الطَّاإِفَةُ الظَّاهِرَةُ وَالْفِرْقَةُ النَّاجِيِّةُ
ফালা- ‘আযাবা বা’দা হাযাল বায়ানি আঁই ইয়াকূনা আহলুল হাদীসি হুমুত্‌ তায়িফাতুয্‌ যাহিরাতু ওয়াল ফিরক্বাতুন নাজীয়া’ –“এই বর্ণনার পর আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে, ‘আহলে হাদীসরাই’ সেই বিজয়ী কাফেলা এবং নাজাতপ্রাপ্ত দল।” (আলবানী, সিলসিলাহ সহীহাহ, ১/৪৮২ পৃঃ, হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা)
(১৪) ইমাম আবুল কাসেম হিবাতুল্লাহ লালকাঈ (মৃঃ ৪১৮ হিঃ) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘শারহু উসুলি ই’তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ’ গ্রন্থে ‘ফাদ্বলি আসহাবিল হাদীসি আলা- উম্মাতি’-‘উম্মতের উপর আসহাবে হাদীসের শ্রেষ্ঠত্ব’ নামে একটি আধ্যায় রচনা করেন ।
আবুবকর আল-খ্বতীব বাগদাদী (৩৯২-৪৬৩ হিঃ) ‘শারফু আসহাবিল হাদীস’-‘আহলে হাদীসদের মর্যাদা’ শীর্ষক একটি স্বতন্ত্র বই লিপিবদ্ধ করেছেন।
ইমাম আব্দুর রাহ্‌মান সাবূনী (৩৭২-৪৪৯ হিঃ) আহলে হাদীসদের আক্বীদাহ সম্পর্কে ‘আক্বীদাতুস সালাফ ওয়া আসহাবিল হাদীস’ নামে একটি বই লিখেছেন এবং আহলে হাদীসদের আটটি বৈশিষ্টের কথা ‘আদাবু আহলিল হাদীস’ শিরোনামে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আস-সানা’আনী (মৃত ৮৪০ হিঃ) একটি বই লিখেছেন যার নাম ‘আল-ইনতিসার লি আসহাবুল হাদীস’ যার অর্থ ‘আহলে হাদীসের বিজয়ের স্বরূপ’।
শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী (১৭০৩-১৭৬২ খৃঃ) স্বীয় জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’-র ১ম খন্ডে ‘আহলুল হাদীস ও আহলুর রায়-এর পার্থক্য’ শিরোনামে অধ্যায় রচনা করে উভয়েরই পরিচয় বর্ণনা করেছেন।
(১৫) ৪র্থ শতাব্দী হিজরীর প্রখ্যাত মুসলিম ভূ-পর্যটক শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাক্বদেসী (মৃত ৩৮০ হিঃ) সিন্ধুর মানসূরা (বর্তমানে পাকিস্থানে অবস্থিত) সম্পর্কে বলেন,
أَكْثَرُهُمْ أَصْحَابُ حَدِيْثٍ -আক্‌সারুহুম আসহাবু হাদীস,- “সেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশই ‘আহ্‌লে হাদীস’।” কাযী আবু মুহাম্মাদ মানসূরী নামে দাঊদী মাঝহাবের একজন ইমামকে সেখানে দেখলাম । ধর্ম প্রচার এবং লেখা-লেখি করার অভ্যাস তার ছিল। তিনি অনেক মূল্যবান পুস্তক রচনা করেন । মুলতানের অধিবাসীরা শী‘আ মতাবলম্বী। প্রত্যেক শহরেই কিছু কিছু হানাফী ফক্বীহ রয়েছেন । এখানে মালেকী বা মু‘তাযেলী কেউ নেই, হাম্বলীও নেই ।” (আহ্‌সানুত্‌ তাক্বাসীম ফী মা’রিফাতিল আক্বালীম, পৃষ্ঠা ৪৮১)
সুলায়মান নাদভী (১৮৮৪-১৯৫৩ খৃঃ) এব্যাপারে মন্তব্য করে বলেছেন যে, ‘সেই প্রাচীন যুগেও এখানে (সীন্ধুর রাজধানী মানসূরাতে) ‘আহলে হাদীস’-এর অবস্থান তাজ্জবের কথাই বটে!’ (আরব ও হিন্দ কে তা’আল্লুক্বাত, পৃঃ ৩৪৭)
(১৬) ঐতিহাসিক আব্দুল ক্বাহির বাগদাদী (মৃঃ ৪২৯ হিঃ) বলেন, “রুম সীমান্ত, আলজেরিয়া, সিরিয়া, আযারবাইজান, মধ্য তুর্কিস্তান প্রভৃতি এলাকার সকল মুসলিম অধিবাসী ‘আহলে হাদীস’ মাযহাবের উপরে ছিলেন। তেমনি আফ্রিকা, স্পেন ও পশ্চিম সাগরের পশ্চাদবর্তী দেশসমূহের সকল মুসলিম ‘আহলে হাদীস’ ছিলেন। একইভাবে আবিসিনিয়ার উপকূলবর্তী ইয়ামনের সকল অধিবাসী ‘আহলে হাদীস’ ছিলেন। তবে তুরস্ক ও চীন অভিমুখী মধ্য তুর্কিস্তান সীমান্তের অধিবাসীদের মধ্যে দু’টি দল ছিলঃ একদল শাফেঈ ও একদল আবু হানীফার অনুসারী।” (আব্দুল ক্বাহির বাগদাদী, কিতাবু উসূলুদ্দীন ১/৩১৭ পৃঃ)
(১৭) খ্যাতনামা বিদ্বান মুহাম্মাদ বিন আব্দুল করীম শহরস্তানী (৪৭৯-৫৪৮ হিঃ) বলেন, “উম্মতের মুজতাহিদ ইমামগণ দু’ভাগে বিভক্ত, তৃতীয় কোন ভাগে নয়। ‘আসহাবুল হাদীস’ ও আসহাবুর রায়। আহলুল হাদীসগণ হেজায (মক্কা-মদীনা)-এর অধিবাসী।…পক্ষান্তরে আহলুর রায়গণ হলেন ইরাকের অধিবাসী। তাঁরা আবু হানীফা নু’মান বিন সাবিত (৮০-১৫০ হিঃ)-এর অনুসারী।” (মুহাম্মাদ বিন আব্দুল করীম শহরস্তানী, কিতাবুল মিলাল ওয়ান নিহাল, ২০৬-২০৭ পৃঃ; মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, আহলেহাদীস আন্দোলন কি ও কেন?, পৃঃ ২৬ )
(১৮) মরক্কোর জগদ্বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও সমাজবিজ্ঞানী আব্দুর রহমান ইবনু খালদূন (৭৩২-৮০২ হিঃ) বলেন, “ফলে তাদের মধ্যে ফিক্বহ শাস্ত্র ‘আহলুল হাদীস’ ও আহলুর রায় নামে দ’টি প্রধান ধারায় বিভক্ত হয়ে যায়। ” একটি হল – রায় ও কিয়াসপন্থীদের তরীকা। তারা হলেন ইরাকের অধিবাসী। দ্বিতীয়টি হল আহলুল হাদীসদের তরীকা। তারা হলেন হেজাযের অধিবাসী।…এই দলের নেতা ছিলেন আবু হানীফা, যার নামে একটি মাযহাব প্রতিষ্ঠা লাভ করে।” (আব্দুর রহমান ইবনু খালদূন, তারীখ, মুক্বাদ্দামা অধ্যায়, ১/৪৪৬ পৃঃ)

Leave a comment

কুফরী কি? কোন কাজ মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়? কুফরীর প্রকারভেদ।

লিখেছেনঃ সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান | অনুবাদ : মুহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
কুফরীর সংজ্ঞা :
কুফরীর আভিধানিক অর্থ আবৃত করা ও গোপন করা। আর শরীয়তের পরিভাষায় ঈমানের বিপরীত অবস্থানকে কুফরী বলা হয়।কেননা কুফরী হচ্ছে আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান না রাখা, চাই তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক কিংবা না হোক। বরং তাদের ব্যাপারে কোন প্রকার সংশয় ও সন্দেহ, উপেক্ষা কিংবা ঈর্ষা, অহংকার কিংবা রাসূলের অনুসরণের প্রতিবন্ধক কোন প্রবৃত্তির অনুসরণ কুফরীর হুকুমে কোন পরিবর্তন আনয়ন করবেনা। যদিও তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী বড় কাফির হিসাবে বিবেচিত। অনুরূপভাবে ঐ অস্বীকারকারী ও বড় কাফির, যে অন্তরে রাসূলগণের সত্যতার প্রতি বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও হিংসাবশতঃ মিথ্যা সাব্যস্ত করে থাকে। [মাজমু আল ফাতওয়া, ৩৩৫]

কুফরীর প্রকারভেদ :
কুফুরী দুই প্রকার ।
প্রথম প্রকার : বড় কুফরী
এ প্রকারের কুফুরী মুসলমান ব্যক্তিকে মুসলিম মিল্লাত থেকে বের করে দেয়। এটি আবার পাঁচ ভাগে বিভক্ত:
১* মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কুফরী:
এর দলীল আল্লাহর বাণী:
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْكَافِرِينَ ﴿৬৮﴾ سورة العنكبوت
‘যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা রচনা করে, অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে, তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে? জাহান্নামই কি এইসব কাফিরের আবাস নয়? [সূরা আনকাবুত, ৬৮]

২* মনে বিশ্বাস রেখেও অস্বীকার অহংকারশতঃ কুফরী:
এর দলীল আল্লাহর বাণী:
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآَدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ ﴿৩৪﴾ سورة البقرة
‘যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদা করল, সে অমান্য করল ও অহংকার করল। সুতরাং সে কাফিরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল। [সূরা বাকারা ২:৩৪]

৩* সংশয়জনিত কুফুরী:
একে ধারণাজনিত কুফরী ও বলা হয়। এর দলীল আল্লাহ তাআলার বাণী:
وَدَخَلَ جَنَّتَهُ وَهُوَ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ قَالَ مَا أَظُنُّ أَنْ تَبِيدَ هَذِهِ أَبَدًا ﴿৩৫﴾ وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِنْ رُدِدْتُ إِلَى رَبِّي لَأَجِدَنَّ خَيْرًا مِنْهَا مُنْقَلَبًا ﴿৩৬﴾ قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَكَفَرْتَ بِالَّذِي خَلَقَكَ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ سَوَّاكَ رَجُلًا ﴿৩৭﴾ لَكِنَّا هُوَ اللَّهُ رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِرَبِّي أَحَدًا ﴿৩৮﴾ سورة الكهف
‘নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বলল, আমার মনে হয়না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে। আর আমি মনে করিনা যে, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়ই, তবে তো আমি নিশ্চয়ই এর চেয়ে উৎকৃষ্ট স্থান পাব। তদুত্তরে তার সাথী তাকে বলল, তুমি কি তাকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর পূর্ণাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে? কিন্তু আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার সাথে শরীক করিনা। [সূরা কাহাফ,৩৫-৩৮]

৪* উপেক্ষা প্রদর্শন ও মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কুফরী:
এর দলীল আল্লাহর বাণী:
وَالَّذِينَ كَفَرُوا عَمَّا أُنْذِرُوا مُعْرِضُونَ ﴿৩﴾ سورة الأحقاف
‘আর কাফিররা যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। [সূরা আহক্বাফ,০৩]

৫* নিফাকী ও কপটতার কুফরী:
এর দলীল হল:
ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ آَمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا فَطُبِعَ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ ﴿৩﴾ سورة المنافقون
এটা এজন্যে যে, তারা ঈমান আনবার পর কুফরী করেছে। ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। অতএব তারা বুঝে না। [সূরা মুনাফিকুন, ০৩]

দ্বিতীয় প্রকার: ছোট কুফরী
এ প্রকারের কুফরী মুসলিম মিল্লাত থেকে বহিস্কৃত করেনা। একে ‘আমলী কুফরী’ ও বলা হয়। ছোট কুফরী দ্বারা সে সব গোনাহের কাজকেই বুঝানো হয়েছে, কুরআন ও সুন্নায় যাকে কুফরী নামে অভিহিত করা হয়েছে। এ ধরনের কুফুরী বড় কুফরীর সমপর্যায়ের নামে। যেমন আল্লাহর নিয়ামতের কুফরী করা যা নিম্নোক্ত আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا قَرْيَةً كَانَتْ آَمِنَةً مُطْمَئِنَّةً يَأْتِيهَا رِزْقُهَا رَغَدًا مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِأَنْعُمِ اللَّهِ فَأَذَاقَهَا اللَّهُ لِبَاسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ ﴿১১২﴾ سورة النحل
‘আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এমন এক জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। তথায় প্রত্যেক স্থান হতে আসত প্রচুর রিযিক ও জীবিকা। অতঃপর সে জনপদের লোকেরা আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞা প্রকাশ করল।’ [সূরা নাহল, ১১২]

এক মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াও এ ধরনের কুফরীর অন্তর্গত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
سِبَابُ المُسْلمِ فُسُوْقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ.
‘কোন মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকী কাজ। আর তার সাথে যুদ্ধ করা কুফুরী। [বুখারী , মুসলিম]

তিনি আরো বলেন:
لَا تَرْجِعُوْا بَعْدِيْ كُفَّاراً, يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ.
‘আমার পর তোমরা পুনরায় কাফির হয়ে যেওনা, যাতে তোমরা একে অপরের গর্দান উড়িয়ে দেবে। [বুখারী, মুসলিম]

গায়রুল্লাহর নামে কসম ও এ কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللهِ كَفَرَ أوْ أشْرَكَ.
‘যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহর নামে কসম করল। সে কুফরী কিংবা শিরক করল। [তিরমিযী, হাকেম]

কবীরা গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ মুমিন হিসাবে গণ্য করেছেন। তিনি বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى ﴿১৭৮﴾ سورة البقرة
‘হে ঈমানদার গণ! তোমাদের উপর নিহতদের ব্যাপারে ক্বিসাস গ্রহণ করা ফরয করা হয়েছে।’ [সূরা বাকারা, ১৭৮]

এখানে হত্যাকারীকে ঈমানদারদের দল থেকে বের করে দেয়া হয়নি। বরং তাকে ক্বিসাসের অলী তথা ক্বিসাস গ্রহণকারীর ভাই হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন:
….فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ…. ﴿১৭৮﴾ سورة البقرة
‘অত:পর হত্যাকারীকে তার(নিহত) ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে (নিহতের ওয়ারিসগণ) প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং (হত্যাকারী) উত্তমভাবে তাকে তা প্রদান করবে। ’ [সূরা বাকারা, ১৭৮]

নিঃসন্দেহে ভাইদ্বারা এখানে দ্বীনী ভাই বুঝানো উদ্দেশ্য। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন:
وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا ﴿৯﴾
‘মুমিনদরে দুই দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। [সূরা হুজরাত, ০৯]

এর পরের আয়াতে আল্লাহ বলেন:
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ ﴿১০﴾
‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাইÑভাই, অতএব তোমরা তোমাদের দু‘ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা কর’। [সূরা হুজরাত, ১০]

সার কথা:
১# বড় কুফরী ইসলামী মিল্লাত থেকে বের করে দেয় এবং আমলসমূহ নষ্ট করে দেয়। পক্ষান্তরে ছোট কুফরী ইসলামী মিল্লাত থেকে বের করেনা এবং আমল ও নষ্ট করে না। তবে তা তদনুযায়ী আমলে ত্রুটি সৃষ্টি করে এবং লিপ্ত ব্যক্তিকে শাস্তির মুখোমুখি করে।
২# বড় কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তি চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে। কিন্তু ছোট কুফরীর কাজে লিপ্ত ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করলেও তাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবেনা। বরং কখনো আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। ফলে সে মোটেই জাহান্নামে প্রবেশ করবেনা।
৩# বড় কুফরীতে লিপ্ত হলে ব্যক্তির জান মাল মুসলমানদের জন্য বৈধ হয়ে যায়। অথচ ছোট কুফরীতে লিপ্ত হলে জান মাল বৈধ হয়না।
৪# বড় কুফরীর ফলে মুমিন ও অত্র কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তির মধ্যে প্রকৃত শত্রুতা সৃষ্টি হওয়া অপরিহার্য হয়ে যায়। তাই সে ব্যাক্তি যত নিকটাত্বীয়ই হোক না কেন, তাকে ভালবাসা ও তার সাথে বন্ধত্ব স্থাপন করা মুমিনদের জন্য কখনোই বৈধ নয়। পক্ষান্তরে ছোট কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনে কোন বাধা নেই। বরং তার মধ্যে যতটুকু ঈমান রয়েছে সে পরিমান তাকে ভালবাসা ও তার সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত এবং যতটুকু নাফরমানী তার মধ্যে আছে, তার প্রতি ততটুকু পরিমান ঘৃণা ও বিদ্বেষভাব পোষণ করা যেতে পারে।

ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ
ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ -ই- গাফফার (সৌজন্যে কুরআনের আলোডটকম)

Leave a comment

Manhaj of Ahl al-Hadeeth

Manhaj of Ahl al-Hadeeth.

Leave a comment

Allaah Has Named us Muslims, So Why Ascribe Ourselves to the Salaf ?

Allaah Has Named us Muslims, So Why Ascribe Ourselves to the Salaf ?.

Leave a comment

THE TAKFIRI LEADERS OF THIS ERA

THE TAKFIRI LEADERS OF THIS ERA.

Leave a comment

The Difference between envy and jealousy

The Difference between envy and jealousy.

Leave a comment

সাইয়েদ কুতুব শহীদের ‘তাফসীর ফী যিলালিল কুরআন’ এবং সালাফী মানহাজের সাথে তার দ্বন্দ

মহান আল্লাহর আরশের উপর সমাসীন থাকার অর্থ সাইয়েদ কুতুব শহীদ যেভাবে করেছেন তা পর্যায়ক্রমে বর্ণিত হল :
(১) “অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হলেন”(কুরআন ১০:৩)- আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন : ‘আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়া’ দ্বারা আসলে মানুষের বোধগম্য ভাষায় আল্লাহর প্রতাপ ও পরাক্রমের দিকেই ইংগিত করা হয়েছে ।
‘সুম্মা’ শব্দটার অর্থ অতঃপর । কিন্তু এখানে এটা কালগত ব্যবধান অর্থে ব্যবহৃত হয়নি । কেননা এখানে কালের কোন প্রভাব নেই । এমন কোন অবস্থা থাকতে পারেনা ,যা ইতিপূর্বে আল্লাহর ছিলো না, কিন্তু পরে হয়েছে । কারণ আল্লাহ্তায়ালা অনাদি ও অনন্ত । তাঁর সত্তায় নিত্য নতুন অবস্থার উদ্ভব হওয়া সম্ভব নয় । তাঁর সত্ত্বায় কোন স্থানগত বা কালগত আবর্তন, বিবর্তন বা পরিবর্তন সাধিত হওয়া অসম্ভব । তাই আমি সুনিশ্চিত যে, ‘সুম্মা’ শব্দটা এখানে সৃষ্টির তুলনায় আল্লাহর মর্যাদাগত ব্যবধান বুঝানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে । আর এই অভিমত দিতে গিয়ে যে আমি মানবীয় বিবেক বুদ্ধির নিরাপদ সীমা অতিক্রম করিনি তাও সুনিশ্চিত । কেননা আমরা এ মূলনীতির ওপর আস্থাশীল যে, মহান আল্লাহর সত্ত্বা চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয় । তাঁর সত্ত্বায় স্থানগত বা কালগত কোন অবস্থার উদ্ভব হয় না এবং সময় বা স্থানের কোনো দাবী ও চাহিদা তাঁর সত্ত্বায় প্রতিফলিত হয় না । (তাফসীর ফী যিলালিল কুরআন, অনুবাদ-হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ, প্রকাশনা- আলকোরআন একাডেমী লন্ডন, ১০/৩৭ পৃষ্ঠা)
ক্রমশঃ চলবে…..ইনশা-আল্লাহ

%d bloggers like this: